শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০১ অপরাহ্ন

আস্থাহীনতায় খানপুর করোনা হাসপাতাল

সোজা সাপটা রিপোর্ট / ৩৩ জন পড়েছেন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আবদুর রহমান (৪১) ফতুল্লা থানার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মুসলিম নগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন আরো প্রায় দেড় মাস আগে। তিনি জানালেন সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, আমি বেশ কিছুদিন জ¦র এবং শারীরিক দূর্বলতায় ভুগছিলাম। সঙ্গে হালকা কাশী ছিলো। প্রথমে গ্রামের ফার্মেসীতে একজন কোয়াক ডাক্তার দেখালে তিনি তাকে পাঁচদিন খাওয়ার জন্য এজিথ্রোমাইসিন, নাপা এবং ফিক্সো দেন। কিন্তু পাঁচদিন খাওয়ার পরেও জ¦র ও কাশী না সাড়লে ওই কোয়াক ডাক্তার তাকে করোনা টেস্ট করার পরামর্শ দেন। পরে আবদুর রহমান বলেন, আমি খানপুর হাসপাতালে যোগাযোগ করে সিরিয়াল দেই এবং একদিন পরে নমুনা টেস্ট করার জন্য নমুনা দেই। নমুনা দেয়ার একদিন পরে আমাকে ম্যাশেজ দিয়ে জানানো হয় আমার করোনা পজিটিভ।
তখন আমার পরিবারের সদস্যরা আমাকে আবারও খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি এক চরম খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই। হাসপাতালে যাওয়ার পর ছয় ঘন্টা কোনো ডাক্তার বা নার্স আমার কাছেও আসেনি। আমি জরুরী বিভাগের ওয়েটিং রুমে বসা ছিলাম। আমাকে ভর্তি নেয়নি।
পরে একজন নার্স এসে আমাকে একটি পেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে বলেন এসব ওষুধ কিনে বাড়িতে একটি নির্ধারিত কক্ষে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হবে। এতে আমি এবং পরিবার মানষিকভাবে ভেঙ্গে পরি। বুঝতে পারি আমি আসলে ভালো কোনো চিকিৎসা পাচ্ছি না।
এদিকে এলাকাবসীর ভয়ে আমার করোনা হওয়ার বিষয়টি কাউকে জানাইনি। তারপরেও প্রতিবেশিরা বিষয়টি আচ করতে পারে এবং নানা কথা বলতে থাকে। পরে আমার এক আত্নীয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে বিষয়টি জানালে তিনি আমাকে দ্রুত চিটাগাং রোডের সাজেদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরই মাঝে আমার কাশী অনেকটা বেড়ে যায় এবং শ^াস কষ্ট শুরু হয়। পরে গত ৩ আগষ্ট সিএনজিতে করে আমাকে সাজেদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার ডাক্তার ও কর্মচারীরা আমাকে দ্রুত ভর্তি করেন এবং চিকিৎসা শুরু করেন। প্রথমেই তারা আমাকে অক্সিজেন দেন এবং দুটি ইনজেকশন দেন। এতে কয়েক ঘন্টা পরেই আমার কাশী ও শ^াস কষ্ট কমে আসে। সেখানে আমি একটি ওয়ার্ডে আটদিন ছিলাম। পাঁচ দিনে মাথায় তারা আমার আবার করোনা টেস্ট করেন এবং নেগেটিভ আসে। এরই মাঝে আমার জ¦রও সেড়ে যায়। তাদের আন্তরিক চিকিৎসায় আমি সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসি ১২ আগষ্ট। তবে পরিস্কার করে এইটুকু বলতে পারি খানপুর করোনা হাসপাতাল আর সাজেদা করোনা হাসপাতালের ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের আচরনে রাতদিন তফাৎ লক্ষ্য করা যায়। ভালো চিকিৎসা পেয়েছি সাজেদা হাসপাতালে।
প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি একেএম সেলিম ওসমান খুবই আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করেছেন খানপুর হাসপাতালের চিকিৎসার মান উন্নত করার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি। ফলে সেলিম ওসমান এমপি এই হাসপাতালের জন্য যে আড়াই কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহ করেছিলেন সেই টাকা দাতাদের ফেরৎ দেন এবং সেলিম ওসমান এই হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব থেকেও অব্যহতি নেন। ফলে এই মুহুর্তে নারায়ণগঞ্জবাসীর আস্থা হারিয়ে একেবারেই মুখ থুবরে পরেছে খানপুর করোনা হাসপাতাল।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর