শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

জুনে নতুন নগর ভবন পাচ্ছেন নগরবাসী

সোজা সাপটা রিপোর্ট: / ৬ জন পড়েছেন
বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্মানাধীণ নতুন নগর ভবনের তৃতীয় ধাপের কাজের টেন্ডার হয়েছে দুই মাস আগে, ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলার কাজও। চলছে অষ্টম, নবম ও দশম তলার কাজ। আগামী বছরের জুন মাসের আগেই শেষ হবে এ কাজের এমনটাই জানায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রত্মা এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মো. জাকির হোসেন।

জানা যায়, ২০১১ সালে মেয়র নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের। পৌরসভা আমলের ১৩টি ওয়ার্ড থেকে নগর এলাকাকে ২৭টি ওয়ার্ডে সম্প্রসারিত করা হয়। কিন্তু পৌরসভা আমলের সেই পুরোনো ভবনেই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনকে। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই সিটি কর্পোরেশনের আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর আধুনিকতা আর নান্দনিকতার মিশেলে নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন নগর ভবনের।

প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিমার্ণাধীণ পরিবেশ বান্ধব ও উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন অত্যাধুনিক এই নগর ভবনটির নির্মাণ কাজ চলমান। ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন নগর ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকার নামকরা স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড ভবনটির নকশা প্রণয়ন করে দেয়।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে বারো কোটি চার লক্ষ ছত্রিশ হাজার ছয়শ’ত টাকা দরপত্র আহবান করা হয়। কাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মতিন লিঃ ও মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজ। দ্বিতীয় ধাপে ১৯ কোটি একত্রিশ লক্ষ বিশ হাজার পাঁচশত চুয়াল্লিশ টাকার দরপত্র আহ্বানের মধ্য দিয়ে মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজই ভবনটির কাজের দায়িত্ব পায়। পরবর্তীতে গত জুলাই মাসে তৃতীয় ধাপে প্রায় ২৭ কোটি টাকা টাকার ৩য় দরপত্র পান মেসার্স রত্মা এন্টারপ্রাইজ।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র আরো জানায়, পৌরসভা থাকাকালীণ যে ভবনটিতে বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের কাজ চলছে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝড়-তুফান হলে নগরভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনেকটা আতংকে থাকেন। যে কারণে একটি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি নগর ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিশেষ ভাবে পাইলিং করে অনেকটা ভূমিকম্প সহনশীল হবে ভবনটি।

আগামী জুন মাসেই শেষ হতে পারে নতুন নগর ভবনের এমনটাই দাবী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এদিকে শীঘ্রই উদ্বোধনের চিন্তা করবে কর্তৃপক্ষ এমনটিই মনে করেন নগর ভবনের কয়েকজন কর্মকর্তা। সেই হিসাবে আগামী বছরের শুরুর দিকে বা মাঝামাঝি কোনো সময়ে উদ্বোধন হতে পারে আধুনিক এই নগর ভবনের এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে নির্মানাধীন নগর ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে পুরোদমে। ভবনের ৭তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। জানা গেছে, বহুতলবিশিষ্ট এই নগরভবনের নীচতলায় থাকবে গাড়ী পার্কি ও অডিটোরিয়াম, ২য় তলায় ওয়ান ষ্টপ সার্ভিস ও হেলথ কেয়ার, ৩য় তলায় ট্যাক্স, লাইসেন্স ও এ্যাসেসমেন্ট, ৪র্থ তলায় এ্যাষ্টেট ও নগর মিউজিয়াম, ৫ম তলায় মেয়র এর অফিস কক্ষ, ৬ষ্ঠ তলায় প্রকৌশল বিভাগ, ৭ম-৮ম তলায় প্রশাসন বিভাগ, ৯ম তলায় মাল্টিপারপাস ও ১০ম তলায় থাকবে ভিআইপি গেষ্ট হাউজ। এছাড়াও ভবনটিতে অত্যাধুনিক লিফট, দুটি সিড়ি, পানি রিজার্ভার থাকবে বলে জানা যায়। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার পাশাপাশি দুটি জরুরি অগ্নিনির্গমন পথ রাখা হবে। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন হবে ১৪ হাজার ৭২০ বর্গফুট। ভূমিকম্প ঝুকির কথা মাথায় রেখে ভবন নির্মাণে যথাযথ প্রযুক্তিগত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

নগরভবনের নির্মাণ কাজে বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রত্মা এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার জাকির হোসেন বলেন, ইনশাআল্লাহ আগামী জুন মাসের আগেই ৩য় ধাপের কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া, নির্মাণাধীণ নতুন নগর ভবনের শতকরা ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর