বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন

নাসিকের নামে রশিদ করে ইজিবাইক থেকে চাঁদা তোলা হয় – মেয়র আইভী

সোজা সাপটা রিপোর্ট: / ১১ জন পড়েছেন
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০

চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ শহর অবৈধ স্ট্যান্ডের শহরে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেছেন, এই চাঁদাবাজির পেছনে কারা আছে তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু মুখ খুলি না। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি চাই ফুটপাতে হকার বসবে না। কিন্তু আরেক জনপ্রতিনিধি চায় বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসুক। আমি চাই ট্রাক স্ট্যান্ড ট্রাকের জায়গায় যাক। কিন্তু অন্য একজন জনপ্রতিনিধি চান ট্রাক স্ট্যান্ড মন্ডলপাড়াতেই থাকবে। কারণ চাঁদাবাজি করতেই হবে। নির্দিষ্ট জায়গায় বাস, ট্রাক, বেবি স্ট্যান্ড থাকুক।
শহরের বিভিন্ন পয়েন্টের অবৈধ যানবাহনের স্ট্যান্ড চিহ্নিত করে সিটি মেয়র বলেন, চাষাঢ়ায় এভাবে অবৈধ স্ট্যান্ড কারা করছে? ২০ টাকা করে সিটি কর্পোরেশনের নামে রসিদ করে খানপুর হাসপাতালের সামনে ইজিবাইক থেকে চাঁদা তোলা হয়। একাধিকবার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রসিদসহ জানিয়েছি। কিন্তু কাউকেই কিছু বলা হয় না। এর পেছনে কারা তা আমরা জানি কিন্তু মুখ খুলি না। রাইফেল ক্লাবের সামনে যেখানে এমপি মহোদয় প্রায় সময়ই বসেন। সেই ক্লাবের সামনে ২৪ ঘন্টা কীভাবে অবৈধ স্ট্যান্ড থাকে? চাষাঢ়াতে কীভাবে অবৈধ স্ট্যান্ড থাকে? সারা শহর এখন অবৈধ স্ট্যান্ডের নগরী। সিদ্ধিরগঞ্জের সড়কে তো পা ফেলা যায় না। কাদের ছত্রছায়ায় এই স্ট্যান্ড চলে? শহরের মানুষ এসব জানে কিন্তু বলতে ভুলে গিয়েছে।
সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কাজ করতে চান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কাজ করতে চাই। তাদের প্রতিহত করতে চাই। যারা চোরের মতো গোপনে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সরকারি জায়গা কেনে তাদেরকে চিহ্নিত করতে চাই। কারণ তাদের পূর্বপুরুষরা পূর্বে এই দেশ, এই শহরের বিরোধিতা করেছে। এখনও করছে, ভবিষ্যতেও করবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২০২০-২১ অর্থ বছরের রাজস্ব ও উন্নয়নসহ মোট ৭’শ ৫৫ কোটি ৭৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৪৪ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতের এই বাজেট ঘোষনা করেন মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে মেয়র এই বাজেট ঘোষণা করেন। যদিও এর আগের সব বাজেট নগর ভবন চত্ত্বরে ঘোষণা করেছিলেন মেয়র। বাজেট ঘোষনার সময় উপস্থিত ছিলেন, নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল আমিন, প্যানেল মেয়র-১ বিভা হাসান, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ। গত অর্থবছরে বাজেট ছিল ৮’শ ৭০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার। করোনা মহামারীর কারণে এবার গত অর্থ বছরের চেয়ে ১’শ ১৫ কোটি ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৪ টাকা কম বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে এবার গৃহকর বাড়ানো হয়নি। তবে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে মোট ৬’শ ৫৮ কোট ৬৬ লাখ ৫ হাজার ২৪৩ টাকা আয় এবং ৬’শ ৫১ কোটি ১৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫৪ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বছর শেষে ঘোষিত বাজেটে ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে। বাজেটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন রাস্তা,ড্রেন,ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, বৃক্ষ রোপন, দারিদ্র বিমোচন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরী ত্রাণ, তথ্য প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা,দূরীকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধৃনিকায়ন, খেলাধূলার মানোন্নয়ন, স্ট্রীট লাইট স্থাপনসহ ওয়াসার থেকে দায়িত্ব পাওয়া নগরবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহ খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেট ঘোষনাকালে মেয়র বলেন, এডিবি, সিজিপি, এমজিএসপি ও এডিপি প্রকল্প সহায়তার মাধ্যমে অবকাঠামো নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সিটি করপোরেশনের আয়বর্ধক প্রকল্প হিসেবে নিজস্ব ভূমিতে বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ আস্তবায়নের জন্য বাজেটে সুযোগ রাখা হয়েছে। বাজেটে খেলাধূলার মানোন্নয়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলাধূলার সামগ্রী বিতরণসহ মাঠ উন্নয়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাজেট ঘোষনায় মেয়র আরও বলেন, আধুনিক ৯ তলা নগর ভবনের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া জিমখানা লেক উন্নয়ন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজও চলমান আছে। শীতলক্ষ্যা নদী হতে ধলেশ^রী নদী পর্যন্ত বাবুরাইল খাল পুনঃখনন, সৌন্দর্যবৃদ্ধি করণ, আলেঅকিতকরণ ও জলাধার সংরক্ষণ, আলোকিতকরণ ও ড্রেনসহ ওয়াকওয়ে নির্মাণ। ৫নং গুদারাঘাটের নিকট শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে কদমরসুল ব্রীজ নির্মাণ। এবারের বাজেটে জাতীয় দিবসসমূহ উদ্যাপনসহ রক্ষনাবেক্ষণ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ রাখা হয়েছে।
২০১২ সালে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বাজেট ঘোষণা করেছিলেন মেয়র আইভী। ওই বছরের ২৫ জুন প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট ঘোষণা করেন তিনি। ওই বাজেট ছিল ৩০৭ কোটি টাকার। এরপর ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে নাসিকের বাজেট ছিল ৪’শ ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার ৩৭৬ টাকা। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বাজেটের পরিমাণ ছিল ৪’শ ২৪ কোটি ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫১২ টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে বাজেট ছিল ৪’শ ৮৮ কোটি ৯০ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ টাকার। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বাজেটের পরিমাণ ছিল ৬’শ ১ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ৭৯১ টাকার। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে বিজয়ী হওয়ার পর নাসিকের ষষ্ঠ বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র আইভী। ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৬’শ ৬৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৫ টাকা ঘোষণা করেন তিনি। ২০১৮ সালে ৭’শ ১৫ কোটি ৫১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৭ টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮’শ ৭০ কোটি ৩৯ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭৬ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে রাস্তা-ড্রেন-গভীর নলকূপ স্থাপন খাতে।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর