মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:১৬ অপরাহ্ন

কলেজ ছাত্র শিপন, জুম্মনকে কুপিয়ে জখম মামলা নেয়নি বন্দর থানা পুলিশ

বন্দর প্রতিনিধি: / ৭ জন পড়েছেন
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের নুরবাগ এলাকার সন্ত্রাসী রাজু বাহিনীর হামলায় কলেজ ছাত্র শিপন ও তার সহযোগী জুম্মানকে মারাত্বকভাবে কুপিয়ে আহত হওয়ার ঘটনার ৭দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও মামলা নেয়নি বন্দর থানা প্রশাসন। গত ৪ সেপ্টেম্বর বন্দর থানায় অভিযোগ হলেও তেমন কার্য্যত ব্যবস্থা গ্রহন করেনি প্রশাসন এমন অভিযোগ ভূক্তভোগী পরিবারের।
এ ব্যাপারে মারাত্বক আহত জুম্মনের পিতা আলী আকবর মিয়া জানান,আমি দিন মজুর মানুষ। কাজ না করলে খাব কি। সপ্তাহে একদিন বাড়িতে থাকি। কাজ ফেলে তো বার বার থানায় যাওয়া যায়না। গত ৭দিন আগে থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ বলেছে মামলা নিবে। একবার আমাকে বন্দর ফাঁড়ীতেও ডেকেছিল অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা। তারমধ্যে ছেলের এই অবস্থা। খুব কষ্টে আছি। ছেলেকে চিকিৎসা করাতে ধারদেনা করে চলছি। আসলে গরিবের জন্য একমাত্র আল্লাহই সহায়ক মাত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনৈক জানান,নুরবাগ এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের হোতা রাজু একজন চিহিৃত সন্ত্রাসী। তার রয়েছে একাধিক অস্ত্রধারী বাহিনী। কিশোর কিশোর ছেলেদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করতে তার দল ভারী করছে সে। সে একজন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় রয়েছে। সেজন্য প্রশাসন তার সম্পর্কে জেনেও নিশ্চুপ রয়েছে। এমন কোন কাজ নেই তার দ্বারা সংঘটিত হয়না। প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে পুলিশের সামনেই ঘুরে বেড়ায়। সাধারন মানুষ আজ আতংকিত।
সুত্রমতে,গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে কলেজ ছাত্র সিপন ও জুম্মন রিক্সা যোগে বাড়ি ফিরছিল। খানবাড়ি মোড়ে রিক্সাটিকে পথরোধ করে নুরবাগ এলাকার সন্ত্রাসী রাজুর বাহিনীর অন্যতম সদস্য সিরাজ শিকদারের ছেলে সন্ত্রাসী রাজিব,নুরবাগ এলাকার জব্বর মিয়ার ছেলে রকিব,ছালেনগর এলাকার ইমরান তৌহিদুল,আলআমিন,শুভসহ ২০/৩০জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। কলেজ ছাত্র সিপন প্রান ভয়ে রিক্সা থেকে নেমে দৌড়ে স্বল্পের চক এলাকার দিকে দৌড় দিলে চারিদিক থেকে আটক করে বেধরক পিটিয়ে আহত করে। অপরদিকে সিপনের সহযোগী বন্ধু জুম্মন খানবাড়ী গলির দিকে দৌড়ে পালাতে গেলে অন্ধকার গলির ভিতর থেকে ২০জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আটক করে সন্ত্রাসী রাজিব ও নকিবের নেতৃত্বে জুম্মনের পা ও পিঠে উপর্যুপরী কোপায়। আহতের চিৎকারে আশপাশের লোক এগিয়ে এলে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসী রক্তাক্ত অবস্থায় কলেজ ছাত্র শিপনকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ও অপর আহত জুম্মানকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
এ ব্যাপারে বন্দর ফাড়ীর ইনচার্জ মাসুদ রানার সাথে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপকালে তিনি জানান,আহতদের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করে এসেছি। মামলার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।
এ ব্যাপারে বন্দর ওসি ফকরুদ্দিন ভূইয়া গনমাধ্যমকে জানায়,অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজ করছে। অপরাধীদের সাথে কোন আপোষ চলবেনা।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর