মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

তুষার, মিনা ও মিসির ৩দিনের পুলিশ রিমান্ডে

সোজা সাপটা রিপোর্ট : / ৬ জন পড়েছেন
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

বন্দরে সাংবাদিক মো. ইলিয়াসকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের জিওধারা চৌরাস্তায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় সাংবাদিক ইলিয়াসকে। সে ওই এলাকার মজিবর মিয়ার ছেলে। স্থানীয় দৈনিক বিজয়ের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইলিয়াস। এদিকে গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে বন্দর থানা পুলিশ। পরে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, তিন আসামিকেই তিন দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গ্রেফতার আসামিরা হলেন: আসামি তুষার (২৮), মিনা (৬০) ও মিসির আলী (৫৩)।
গত রোববার রাতে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের জিওধারা চৌরাস্তার উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে সাংবাদিক ইলিয়াস শেখকে হত্যা করা হয়। সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম বাদী হয়ে ওই রাতে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক আসামি তুষারকে (২৮) পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। পরে অভিযান চালিয়ে মিনা (৬০) ও মিসির আলী (৫৩) নামে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলায় অন্য আসামিরা হল: হাসনাত আহমেদ তুর্জয় (২৪), মাসুদ (৩৬), সাগর (২৬), পাভেল (২৫) ও হজরত আলী (৫০)। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে জানান বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ছুরিকাঘাত করে ওই সংবাদকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রক্তমাখা ছুরিসহ তুষার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে চারজন জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে। মামলা হয়েছে ৮জনের বিরুদ্ধে, এ পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্যাসের লাইন নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে সাংবাদিক ইলিয়াসকে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল বন্দর উপজেলা। সোমবার সকালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। সেই সাথে স্যোশাল মিডিয়াতে নিন্দার ঝড় বইছে।
১২ অক্টোবর সকালে বন্দরের আদমপুর ও জিওধারা এলাকায় ওই বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ সময় টায়ার পুড়িয়ে কল্যান্দী-সাবদী সড়ক অবরোধ করা হয়। প্রায় এক ঘন্টা এ বিক্ষোভ চলার পর স্থানীয় থানা পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা এলাকায় বিভিন্ন সময় অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের গ্রেপ্তারে করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ও মাদকের সাথে সম্পৃক্ত লোকজনকেও আইনের আওতায় আনার দাবী তুলো হয়।
অন্যদিকে, জেলা জুড়ে সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের সর্বচ্চো শাস্তির দাবীর স্ট্যাটাস ভেসে বেড়াচ্ছে স্যোশাল মিডিয়ায়।

উল্লেখ্য, রোববার বন্দরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে মোঃ ইলিয়াছ শেখ (৪৫) নামে এক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়। কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আদমপুর জিওধারা চৌরাস্তা বাজারে হত্যাকান্ডের ওই ঘটনা ঘটে। ঘাতক তুষার একই এলাকার মৃত জামান ওরফে ফেন্সী জামানের ছেলে। নিহত ইলিয়াস ৩ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানের জনক।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাওলাদ হোসেন বলেন, রাত ৯টায় জিওধারা চৌরাস্তা থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন ইলিয়াছ। বাজারে আগে থেকেই মাদক ব্যবসায়ি তুষার, তার ছোট ভাই তুর্যসহ তাদের বেশ কিছু সহযোগি অবস্থান করছিল। ইলিয়াছকে দেখেই তুষার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। সেদিকে কান না দিয়ে ইলিয়াছ বাসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কিছু বুঝে উঠার আগেই হঠাৎ করেই তুষার পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে ইলিয়াছকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এক পর্যায়ে তার পেট ও বুকে ছুরিকাঘাত করলে ইলিয়াছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ দেড়শ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, কিছুদিন পূর্বে তুষার মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। এজন্য তুষার ও তার পরিবার ইলিয়াছকে সন্দেহ করছিল। এরা এলাকায় অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগের সঙ্গেও জড়িত। তাছাড়া ঘাতক তুষারের বাবা জামান এলাকায় ফেন্সিডিলের ব্যবসা করতো। বাবার দেখানো পথেই ওই এলাকার তুষার ও তার ভাই তুর্য মাদক ব্যবসা করে।
দৈনিক বিজয় পত্রিকার সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সেন্টু বলেন, ইলিয়াছ তার এলাকার মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে তাদের টার্গেটে পরিণত হন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইতিপূর্বে বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাকে জীবন দিয়ে তার মূল্য পরিশোধ করতে হলো। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করেন।
এদিকে সাংবাদিক ইলিয়াছ হত্যার প্রতিবাদ ও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু আল মোরছালিন বাবলা এবং পেশাদার সাংবাদিক প্ল্যাটফর্মের আহবায়ক বিল্লাল হোসেন রবিন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যা মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেফতার এবং বাকিরা পলাতক রয়েছে। অবৈধ সংযোগের বিষয় নিয়ে বিরোধের একটি বিষয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তারিত তদন্তের পর হত্যার মূল কারণ জানা যাবে।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর