বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

আমি রাজনীতি করি না এটাই আমার দোষ- সেলিম ওসমান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৩৫ জন পড়েছেন
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০
আমি রাজনীতি করি না এটাই আমার দোষ- সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছেন, মানুষ মানুষের জন্য। আমি রাজনীতি করবো কখনো ভাবি নাই। এমনও রাজনীতিবীদ আছেন যারা দোয়া করেন আমার যেন মৃত্যু হয়। বন্দর থেকে এমপিত্ব পদ কেরে নিতে চান। কারন আমার মৃত্যু হলে একটি আসন শুন্য হবে। আমি রাজনীতি করি না এটাই আমার দোষ।
রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের হল রুমে খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে উন্নয়নের জন্য মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এমপি সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ বিসিক শিল্প এলাকায় প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে এক কোটি মানুষের রোজি রোগারের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আমাদের অভাবের শেষ নাই। আর এসকলের সব কিছুর মুলে অপরাজনীতি। হিংসা বিদেষের জন্য আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। মানুষকে শিক্ষা দেয়ার জন্য আল্লাহ এই মহামারী রোগ দিয়েছেন। এর থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা সবাই টাকার পিছনে দৌরাচ্ছিলাম। টাকা ছাড়া আমরা কেউ কিছু বুঝি না। আমাদের মনে হচ্ছে করোন মনে হয় চলে গেছে, আসলে তা নয়। করোনা দিন দিন আরো বারছে। এর থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সারা বিশ্বের মানুষ করোনা ভ্যাকসিন তৈরীর চেষ্টা করছেন। মানুষকে কিভাবে এর থেকে পরিত্রান দেয়া যায় ওই চেষ্টা চালাচ্ছে।
সাংসদ সেলিম ওসমান বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছি। কতটুকু করতে পেরেছি তা জানি না। সুচিকিৎসা নিয়ে হয়তো আমাদের কিছু গাফিলতি আছে। আমাদের ভুল স্বীকার করতেই হবে। সব জায়গায় দালাল বাটপার ভরেগেছ। তারা হাসপাতাল থেকে রোগী ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আমি খানপুর হাসপাতালে তত্বাবধায়কের পিএ সিদ্দিকের দূর্নীতির বিচারের দাবি জানিয়ে ছিলাম। সে কি করে বদলী হয়ে রাজশাহী চলেগেলেন। তার সাথে আমাদের আশে পাশের লোকজনও দুর্নীতিতে জরিত ছিল। আমি এ ঘটনার তদন্তসহ বিচার দাবি করছি। নারায়ণগঞ্জের মানুষের পরিশ্রমের টাকা কেউ আত্মসাত করে নিয়ে যাবে তার বিচার হবে না এটা হতে পারে না।
নারায়ণগঞ্জের উপজেলা মাতৃ সদন হাসপাতাল গুলোতে লুটপাট হচ্ছে। এবিষয় গুলোতে নজর দিতে হবে। এমপি বলেন,আমরা সবাই মিলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন করবো। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসবো। আমার সব থেকে বেশি প্রয়োজন হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে। কারণ শহর যদি নোংরা থাকে তাহলে রোগব্যাধি ছড়াবে। জেলার উন্নয়নের স্বার্থে জনগণের মঙ্গলের জন্য আমরা সবাইকে নিয়ে এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে পরিকল্পনা নিয়ে ভবিষ্যতের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করবো। এসময় খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের জন্য ৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন ব্যবসায়িরা অনুদানের নগদ অর্থ ও চেক হস্তান্তর করেন।

মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বিকেএমইএ এর সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড এর সভাপতি তানভীর আহম্মেদ টিটু, বিকেএমইএ সহ সভাপতি(অর্থ) মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, মহানগর আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ হোসিয়ারী সমিতির সহ সভাপতি ও বিকেএমএর পরিচালক মোহাম্মদ কবীর হোসেন
সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ শতাধিক ব্যবসায়ী।
নগদ অর্থ প্রদান করা ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার মধ্যে শোভন গ্রুপের আবু আহম্মেদ সিদ্দিক ১০ লাখ, ফকির নীটওয়্যার এর ফকির আক্তারুজ্জামান ১০ লাখ, ফকির অ্যাপারেলস এর ফকির মনিরুজ্জামান ১০ লাখ, ক্রোনী গ্রুপের এ এইচ আসলাম সানী ১০ লাখ, টার্গেট গ্রুপের তানভীর আহম্মেদ টিটু ১০ লাখ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর সাবেক সহ সভাপতি রাশেদ সারোয়ার ৫ লাখ, মডেল গ্রুপের মাসুদুজ্জামান ৫ লাখ, এসপি গার্মেন্টস এর সুবল চন্দ্র সাহা ৫ লাখ, হাজী হাসেম স্পিনিং এর মোহাম্মদ সোলায়মান ৫ লাখ, সরোজ কুমার সাহা ৫ লাখ, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টের সভাপতি লিটন সাহা ৫ লাখ, আলীরটেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ৫ লাখ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সহ সভাপতি আমিনুর রশিদ ৫ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক রতন সাহা ৫ লাখ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল ৫ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু ৫ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক কবির হোসেন ২ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক নন্দ দুলাল সাহা ৩ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক নাসিম উল তারেক মঈন ৩ লাখ, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব এর পরিচালক ইদি আমিন ইব্রাহিম খলিল ১ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক আশিকুর রহমান ৩ লাখ, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ৫ লাখ, মোহাম্মদ হাতেম ৫ লাখ, দীপক কুমার সাহা ৫ লাখ, জসিম উদ্দিন ৫ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য এর আগে ১ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমপি সেলিম ওসমান ২০ লাখ টাকা, নির্বাহী পরিচালক ও থ্রিস্টার ফার্ম হাউজ এর স্বত্তাধিকারী মিসেস নাসরিন ওসমান ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মডেল ডি ক্যাপিটেল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২৫ লাখ টাকা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বিকেএমইএ সহ সভাপতি(অর্থ) মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, পরিচালক আশিকুর রহমান, সাইফুল খন্দকার, কবির হোসেন, নন্দ দুলাল সাহা, শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু, সেলিম মাহাবুব, ইমরান কাদির তূর্য, নাসিমুল তারেক মঈন সম্মিলিত ভাবে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেট্রো নিটিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল পোদ্দার ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ড্রিম হলিডে অ্যাডভ্যাঞ্চার পার্কের স্বত্তাধিকারী প্রবীর কুমার সাহা ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আটা ময়দা মিলক মালিকদের মধ্যে মতিউর রহমান মতি, জসিম উদ্দিন মৃধা, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ সোহাগ, আব্দুর রশিদ ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম সম্মিলিত ভাবে ৬ লাখ টাকা প্রদান করেছেন।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর