শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

না’গঞ্জে পাশপোর্ট অফিসে ভাঙ্গচুর: প্রবাসীকে মারধর

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: / ৬ জন পড়েছেন
সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০

নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কানাডা প্রবাসী একজন স্ত্রী ও সন্তান সহ পাসপোর্ট করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিগুলো সত্যায়িত না করার জের ধরে একজন অফিস সহকারীর সঙ্গে বাকবিতন্ডার পরে ওই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে ওই কানাডা প্রবাসীর দাবী, তার সঙ্গে চরম খারাপ ব্যবহার করেছেন ওই কর্মকর্তা। এক পর্যায়ে তাকে রোহিঙ্গা আখ্যায়িত করায় তিনি নিজেকে সামলে নিতে পারেনি।

১৫ নভেম্বর রোববার দুপুরে ফতুল্লার ভূইগড়ে ওই ঘটনা ঘটে। পুলিশ কানাডা প্রবাসী আজমল হোসেনকে আটক করেছে। তিনি শহরের উত্তর চাষাঢ়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা মোশারফ হোসেনের ছেলে।

আজমল হোসেন বলেন, ২০ বছর যাবত কানাডায় বসবাস করি। স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশে এসেছি। তাদের পাসপোর্ট নেই। পাসপোর্ট অফিসের নতুন ভবনে ৩মাসের শিশু সন্তানের জন্য পাসপোর্ট করতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সকালে প্রায় ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আবেদন জমা দেয়ার স্থানে যাই। আবেদন জমা নেয়ার সময় তিনি প্রত্যেকের সঙ্গেই খারাপ ও রূঢ় আচরন করছে। কিছু না বুঝিয়ে আবেদনপত্র ছুড়ে ফেলে দেয়।

তিনি আরো বলেন, আমার সন্তানের আবেদনপত্র জমা দিলে তিনি ওই পূর্বের আবেদনকারীদের সঙ্গে যে আচরণ করে আমার সঙ্গেও সেই আচরণ করেন। তিনি আমাকে সমস্যা না বলে দূরে যেতে বলে। তখন আমিও উচ্চস্বরে তার সাথে কথা বললে সে আমার কাছে কিছু কাগজের কথা বলেন। এসময় সেই কাগজগুলো আবেদনে রয়েছে এবং দেখিয়ে দেই। এরপরও সে বলে পরে দেখবো। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গ্লাসে ঘুষি দিলে গ্লাস ভেঙ্গে যায়। তখন তাৎক্ষনিক তাদের লোকজন এসে আমার স্ত্রী ও শিশু সন্তানের সামনে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে টেনে হিচড়ে তিন তলায় নিয়ে যায়। সেখানেও অনেক মারধর করে আমাকে। আমার স্ত্রী চিৎকার করে তাদের কাছে আমার জন্য ক্ষমা চায়। তারপরও তারা আমাকে মারধর করে। এসময় তাদের অফিসের একজন কর্মকর্তা আমাকে মারধর থেকে রক্ষা করেন।

পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল আর হাসান বলেন, আবেদনপত্র গ্রহনের জন্য অফিস সহকারী মহসিন ওই ডেস্কে ছিলেন। আজমল হোসেন নামে এক ব্যক্তি তার শিশুর জন্য আবেদনপত্র জমা দেন। ওই আবেদনপত্রে ব্যাংক জমার রশিদ ও কাগজপত্রে সত্যায়িত করেনি। তর্কের এক পর্যায়ে তিনি রোহিঙ্গা কিনা তা যাচাই করতে নির্ধারিত ডেস্কে যাচাইয়ের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্টের জায়গা নিতে চাইলে তিনি রেগে যান। বিষয়টি তাকে বুঝানোর পরও সে ক্ষিপ্ত হয়ে গ্লাসে ঘুষি দেয়। তখন গ্লাস ভেঙ্গে মহসিনের উপরে পড়ে তার হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এছাড়া গ্লাস ভাঙ্গা টুকরো পড়ে একটি কম্পিউটারের মনিটরসহ সরঞ্জাম ভেঙ্গে যায়। আবেদনকারীকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল আর হাসান।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর