বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:২২ অপরাহ্ন

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতারণা : রফিউর রাব্বি

শহর প্রতিনিধি: / ৫ জন পড়েছেন
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেছেন, আইনমন্ত্রী বলছেন মৃত্যুদণ্ড আইন করায় এখন আর ধর্ষণ হবে না। এইটি একটি রাজনৈতিক প্রতারণা। ধর্ষককে পাঁচবার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলেও তাকে পাঁচবার ফাঁসিতে ঝোলালেও ধর্ষণ বন্ধ হবে না। যতদিন না আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হবে, বিচারহীনতার এ তামাশা বন্ধ হবে। আইন থাকার পরেও গত দশ বছরে ধর্ষণে মামলার নিস্পত্তি হয়েছে মাত্র ৩.৪৫ শতাংশ, শাস্তির হার ০.৩৪ শতাংশ। দীর্ঘসূত্রতা, ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার কারণে নির্যাতিতাদের অধিকাংশই মামলা থেকে সরে আসেন। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে বিদ্যমান আইনেই ধর্ষণ বন্ধ করা যেত। তিনি বলেন, ধর্ষকের সাথেসাথে তাদের পেছনের রাজনৈতিক গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে, থানায় মামলা নেয়ার সময় যে সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তা মামলাকে দুর্বল করার জন্য ভূমিকা রাখেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে, দ্রুতবিচার আদালতে মামলা নিস্পত্তি করতে হবে।
বিচারহীনতা ও অব্যাহত ধর্ষণের বিরুদ্ধে শনিবার (১৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে সরকার গত ১৩ অক্টোবর ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আইন প্রনয়ণ করেছে। আইন করলেই ধর্ষণ বন্ধ হবে না। ইতিপূর্বে ধর্ষণের কারণে সাতটি ধারায় মৃত্যুদণ্ডের আইন ছিল, কিন্তু তা কখনো কার্যকর করা হয় নাই। আইনটি কার হাতে, কে এর প্রয়োগ করবে সেইটিই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মানিক ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে আনুষ্ঠানিক ভাবে উৎসব করে ঘোষণা দিয়েছিল। সারাদেশে তখন প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও মানিকের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। তাকে শুধু মাত্র বিশ^বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করার ঘটনার মূল আসামী যুবলীগের দেলোয়ার ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে দলে তার অবস্থান শক্তপোক্ত হয়েছিল। যে অনৈতিক ও বিতর্কিত নির্বাচনে সরকার গঠিত হয়েছে, সে নির্বাচনে ভূমিকা পালনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নৈতিক কোন শক্তি এই সরকারের নাই। যে পুলিশকে দিয়ে অনৈতিক নির্বাচন করিয়ে তারা সরকার গঠন করেছে সে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নৈতিকতা তাদের থাকতে পারে না।
নাগরিক কমিটির সভাপতি এড. এবি সিদ্দিকের সভাপতিত্বে জহিরুল হক মিন্টুর পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন, উদীচী’র জেলা সভাপতি জাহিদুল হক দীপু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, সিপিবির জেলা সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদের জেলা সংগঠক আবু নাইম খান বিপ্লব, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, ন্যাপের জেলা সম্পাদক এড, আওলাদ হোসেন, নাগরিক কমিটির অর্থ সম্পাদক আবদুল হাই, সদস্য এড. অজয় কিশোর মোদক, নূর হোসেন মোল্লা, লোকমান হোসেন, মরিয়ম কল্পনা ও সামাজিক সংগঠন সমমনার সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে এবি সিদ্দিক বলেন, বিদ্যমান আইনে ১৮০ দিনে মামলা নিস্পত্তি করার বিধান থাকলেও তা কার্যকর করা হয় না। যারফলে ধর্ষকরা বেপরোয়া, কোন আইনকেই তারা পরোয়া করে না। আইন প্রণয়নের পরেও ধর্ষণ আজ বন্ধ হচ্ছে না। ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডই শেষ কথা নয়, আইনের সঠিক প্রয়োগ চাই। তিনি ধর্ষকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নির্যাতিতাদের মধ্যে হস্তান্তরের বিধানের দাবি জানান। তিনি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর