বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:০১ পূর্বাহ্ন

আগামী বছরের শুরু দিকে কদম রসূল সেতুর ভিত্তি প্রস্তর

প্রতিবেদকের নাম / ৮ জন পড়েছেন
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

আগামী বছরের শুরুর দিকেই কদম রসুল সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ড. সেলিনা হায়াৎ আইভি। বেসরকারী টেলিভিশন মাছরাঙ্গার নগর ভাবনা বিষয়ক একটি টক শো অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী এসব কথা বলেন। ২৭ অক্টোবর রাত ১১টায় এটা প্রচারিত হয়।
মেয়র আইভী আরও বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে কদমরসুল ব্রিজের কাজ খানিকটা পিছিয়েছিল। একটি কোরিয়ান কোম্পানি এ কাজটি পেয়েছে। ঢাকা এলজিআরডি আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। একনেকে পাশ হয়েছে অনেক আগেই, এদিকে সার্ভের কাজটা প্রায় শেষ। ড্রয়িং ডিজাইনের কাজও একদম শেষের দিকে। আমাদের জমি একোয়ারের কাজ এখন চলমান। আশা করছি ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে ভিত্তিপ্রস্তর করতে পারবো। এর মধ্যে আমাদের অন্যান্য কাজও শেষ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
মুজিব বর্ষ থাকাকালিন সময়েই এই প্রধানমন্ত্রীর হাতে এ সেতুর উদ্বোধন করাতে চান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জবাসীর বহুল প্রতিক্ষিত শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিতব্য সেতুটির নাম ;কদমরসুল সেতু। ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর অনুমোদন দেন। ৫৯০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দৈর্ঘ্য ১৩৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ১২.৫ মিটার বিশিষ্ট সেতুটি নগরীর ৫নং ঘাটে নির্মিত হবে। সেতুটি বন্দরের আলী আহম্মদ চুনকা সড়ক (১০০ ফুট রাস্তা) হয়ে ৫নং খেয়াঘাট পরে সিরাজদৌলা সড়কে এসে শেষ হবে। সেতুটির নকশা অনুযায়ী তৈরির কার্যক্রম চলছে। অচিরেই প্রকল্পের দরপত্র আহবান করা হর্বে। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রথমে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর ধরা হলেও করোনার জন্য তা পিছিয়ে ২০২১-২০২২ ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালে এর কার্যক্রম শেষ হবে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে আরো জানা যায়, সেতুটির দুই পাশে ৫ ফুটের ওয়াকওয়ে থাকবে। বৈদ্যুতিক বাতি সহ অত্যাধুনিক সব কিছুই থাকবে। সব ধরনের যানবাহন যাতায়াত করতে পারবে। এর জন্য কোন টোল লাগবে না। সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী নগরবাসীর সুবিধার জন্যই এ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরকে আলাদা করে রেখেছে শীতলক্ষ্যা নদী। জীবিকার জন্য এ নদী পারাপার হয় প্রতিদিন লাখ মানুষ। এরজন্য যেমন কর্মঘণ্টা ব্যয় হয় তার চেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয় যখন কেউ অসুস্থ হয়ে পরে। তাছাড়া শিক্ষা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার জন্য নদীর পার হতে হয় বন্দর এলাকার মানুষকে। তাই দীর্ঘদিন দরেই বন্দরবাসীর চাহিদা ছিল শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে এটি সেতু নির্মাণ করে দুই পারের বাসিন্দাদের এক করা হোক। আর তাই বন্দরবাসীর স্বপ্ন পূরণে উদ্যোগ নেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। যার ধারবাহিকতায় কার্যক্রম শুরু হয়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজগর হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন,সেতুটি দৃষ্টিনন্দন হবে। কোভিড-১৯ এর জন্য কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ডিজাইন শেষ হলেই প্রকল্পের কার্যক্রমের দরপত্র আহবান করা হবে। তাপর যেকোন সময় মেয়র মহোদয় এর কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। শুরু হওয়ার দুই বছরের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে।
তিনি আরো বলেন, শীতলক্ষ্যার ভরা মৌসুমের চেয়ে ৫৪ফিট উপরে ব্রীজের তলা থাকবে। ফলে এর নিচ দিয়ে অনায়াশে যেকোন জাহাজ যাতায়াত করতে পারবে। এমনকি উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় এর মতো জাহাজও নিচ দিয়ে যেতে পারবে।
সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, করোনার জন্য আমাদের সকল কার্যক্রম থেমে ছিল। এখন আবারও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অচিরেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর