মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

আজ নাসিকের ৭৫৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা

সোজাসাপটা রিপোর্ট: / ৯ জন পড়েছেন
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

এবারও ৭৫৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা করতে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবুল আমিন জানিয়েছেন আজ ১৩ অক্টোবর বুধবার এই বাজেট ঘোষনা করা হবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ঘোষনা করবেন এই বাজেট। তিনি আরো জানিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের এই বাজেট ঘোষনা করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারনে সীমিত পরিসরে এবারের বাজেট ঘোষনার আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকাল ১০.৩০টায় আলী আহম্মেদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে মেয়র ঘোষনা করবেন বাজেট। অনুষ্ঠানে সরকারের নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে সিটি করপোরেশন সূত্র আরো জানিয়েছে এবারের বাজেটেও পূর্বের বাজেটের মতোই নগরীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ সুবিধা উন্নয়নে বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন খালবিল, জলাশয় রক্ষা এবং সৌন্দর্যবৃদ্ধিকরন এবং বৃক্ষরোপন সহ একটি বসবাসযোগ্য উন্নত নগরী গঠনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ রাখা হচ্ছে। মেয়র আজ গুরুত্বপূর্ণ এই বাজেট বক্তৃতায় তার বিগত দিনের উন্নয়ন ও আগামী দিনে কি উন্নয়ন করবেন এ বিষয়ে জনগনের সামনে পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে এবারের বাজেট ঘোষনা উপলক্ষ্যেও নগরীর বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এবং সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিদের দাওয়াত করা হয়েছে। কোভিড-১৯ এর সীমাবদ্ধতা সত্বেও বাজেট অনুষ্ঠান প্রানবন্ত রাখার চেষ্ঠা করা হবে বলে সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী কেবল নারায়ণগঞ্জ সিটির উন্নয়নের রুপকার নন বরং তিনি একজন গ্রেট মাস্টার প্লানার। নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহলের মতে তিনি যেভাবে মাস্টার প্লান করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার উন্নয়ন করেছেন এবং করে চলেছেন তাতে তিনি এরই মাঝে নারায়ণগঞ্জের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ শহর, বন্দর এবং সিদ্দিরগঞ্জে যে শত শত কোটি টাকার মেঘা প্রকল্পের কাজ চলছে এসব কাজ শেষ হলে নারায়ণগঞ্জ হয়ে উঠবে রাজধানী ঢাকার চেয়েও বসবাস উপযোগী আকর্ষনীয় এলাকা। তাই মেয়র আইভী এরই মাঝে একজন মহান পরিকল্পনাবিদ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। সততা এবং দক্ষতার সহিত উন্নয়ন করার কারনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অকুন্ঠ সমর্থন লাভ করে এসেছেন। মেয়র আইভীর ভাষ্য মতে নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যখন যা চেয়েছেন তাই পেয়েছেন। মেয়র আইভী বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক উন্নয়ন করে সারা বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। আপনি এখন দেশের যে প্রান্তে যাবেন সেখানেই দেখতে পাবেন ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া। আর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার উন্নয়নে তিনি আমাকে দু হাত খুলে সহায়তা করছেন। তাই আমার পক্ষে এতো উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে। আগামী দিনেও আরো বহু প্রকল্পের কাজ হবে ইনশাআল্লাহ।
এদিকে এই শহরের অধিকাংশ মানুষের মতে বার বার নির্বাচিত একজন সফল মেয়র হিসাবে ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী সারা দেশের মানুষের কাছে নিজের একটি শক্ত ইমেজ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন আরো অনেক আগেই। তিনি প্রয়াত জননেতা আলী আহম্মদ চুনকার বড় মেয়ে। আর আলী আহম্মদ চুনকা ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান। তার কন্যা ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে। ওই সময় তিনি নিউজিল্যান্ড থেকে এসে পৌরসভাপ নির্বাচন করেন এবং বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলাম সরকারকে বিপুল ভোটে হারিয়ে পৌর সভার মেয়র নির্বাচিত হন। পরে ২০১১ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী মেয়র হিসাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রায় আট বছর নারায়ণগঞ্জ পৌর সভার দায়িত্ব পালন করার পর ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি এই সিটি করপোরেশনের এবং গোটা বাংলাদেশের প্রথম নারী মেয়র হিসাবে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। তখন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন। পরে ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে আবারও বিপুল ভোটে জয়ী হন। মূলত এভাবেই তিনি টানা উনিশ বছর ধরে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা এবং পরে নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। নারায়ণগঞ্জে প্রবিন ব্যাক্তিদের মতে নারায়য়নগঞ্জ শহরকে একটি ধ্বংশস্তুপ থেকে একটি উন্নত শহরে রুপান্তর করেছেন এই নারী মেয়র। ব্যাক্তিগত জীবনে কঠোর পরিশ্রমী মেয়র আইভী একটি অন্ধকার শহরকে একটি আলো জলমলে শহরে রুপান্তর করেছেন। তাই তার এই ১৯ বছরের ইতিহাস হবে এই জনপদের জন্য স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত হবে। আইভীর শাসনামল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে বলেই নারায়ণগঞ্জ শহরের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার সকল পূরনো রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ সুবিধা গড়ে তোলা ছাড়াও তিনি বহু নতুন রাস্তা নির্মান করেছেন। তিনি এমন সব জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মান করেছেন যা কিনা অতীতে কেউ কল্পনাও করেননি। তার প্রতিটি মহৎ পদক্ষেপেও প্রবল বাধা এসেছে, কিন্তু তিনি ছিলেন অনড় ও অবিচল। তিনি এই শহরবাসীর জন্য এমন কিছু করে রেখে যাচ্ছেন যা কিনা এই শহরের নতুন প্রজন্ম বহুকাল পর্যন্ত এর সুফল ভোগ করবেন। সিটি করপোরেশনের নারায়ণগঞ্জ শহর ছাড়াও মেয়র আইভী বন্দর এবং সিদ্ধিরগঞ্জের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। ওই দুই এলাকায়ও তিনি রাস্তাঘাটের পাশাপাশি বহু বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তিনি কেবল মানুষের স্বাচ্ছন্দে চলাচলের জন্য কেবল রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্টের উন্নয়নই করেননি বরং তিনি পরিবেশ বান্ধব শহর গড়ে তোলার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এই সিটি করপোরেশেনের পরিত্যাক্ত খাল, লেক ও পুকুরগুলি তিনি পূনরুদ্ধার করে রীতিমতো জনগনের বিনোধন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলছেন। রক্ষা করেছেন সিটি করপোরেশন এলাকার খেলার মাঠগুলি এবং এসব মাঠেরও ব্যাপক উন্নয়ন করে চলেছেন। জিমখানা লেককে শেখ রাসেল পার্কে রুপান্তর, বাবুরাইল খাল পূনরুদ্ধার ও ব্যাপক উন্নয়ন, সিদ্ধিরগঞ্জ খালের ব্যাপক উন্নয়ন, বন্দরের ত্রিবেনী খাল সহ অন্যান্ন খালের পরিবেশ বান্ধব ব্যাপক উন্নয়ন, মন্ডলপাড়া খাল সহ বহু খাল ও পুকুরের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এবং করে চলেছেন মেয়র আইভী। এবং সর্বশেষ শহরের উত্তরে গঞ্জেআলী খালের কাজও ইতোমধ্যে শুরু করেছেন তিনি। লেক ও খালগুলিকে তিনি কেবল উন্নয়ন করেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না বরং এসবকে তিনি এই শহরের মানুষের বিনা মূল্যে বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলেছেন। লেক ও খালপারে তিনি লাগাচ্ছেন বিপুল পরিমান গাছ। দেওভোগ ও জিমখানার শেখ রাসেল পার্ককে তিনি এমন একটি পার্ক হিসাবে গড়ে তুলেছেন যে এই লেকপারে গেলে প্রান জুরিয়ে যায়। ফলে এক কথায় বলা চলে একটি ইটপাথরের শহরেকে তিনি গাছপালায় ভরা প্রচুর অক্সিজেনের শহরে রুপান্তর করার জন্য আপ্রান চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তিনি কেবল স্বাচ্ছন্দে চলাচলের ব্যাবস্থাই করছেন না বরং শহরবাসী যাতে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারেন সেই ব্যাবস্থাও করছেন। তিনি প্রাকৃতিক বিনোধন কেন্দ্রের বাহিরেও আরো একাধিক বিনোধন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। সিটি করপোরেলশনের নতুন নগর ভবন গড়ে তুলেছেন তিনি, সেটাও হচ্ছে শহরবাসীর জন্য আরো একটি অনবদ্য সৃষ্টি। বিশাল এই নগর ভবনে কেবল মেয়র, কাউন্সিলর বা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বসে কাজই করবেন না, বরং ভবনের বিভিন্ন তলায় নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্রও থাকছে। এই ভবনে গড়ে তোলা হচ্ছে মিউজিয়াম। তিনি আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগার এবং মিলনায়তনে শহরবাসীর জন্যে বিশাল লাইব্রেরী, হল এবং সিনেমা থিয়েটার গড়ে তুলেছেন। সিটির অনেক ওয়ার্ডে গড়ে তোলা হয়েছে মা ও শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। আর এই সকল সেবা কেন্দ্রে এসে মানুষ সরকারী হসপাতালের চেয়েও যত্নের সহিত ভালো চিকিৎসা পাচ্ছে। তাই এক কথায় বলা চলে মেয়র আইভী এক সময়কার গিঞ্জি শহর নারায়ণগঞ্জকে একটি বসবাসের উেেপাগী স্বাস্থ্যকর শহরে রুপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এতো কিছু করার পরেও এক শ্রেনীর মানুষ কেবল তার সমালোচনা করছেন। এটাই স্বাভাবিক। যতো মহৎ নেতাই হোন না কেনো তিনি কখনোই সব মানুষের মন জয় করতে পারবেন না। এছাড়া একজন মানুষ হিসাবে তার কিছু ভুল ত্রুটিও থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটাই হলো বাস্তবতা যে ইতিহাসে কখনো ভুল কিছু লিপিবদ্ধ হয় না। কেউ ইতিহাস বিকৃতি করতে চাইলেও তা কখনো ফলপ্রসু হয় না। কারন একদিকে যেমন ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না অপরদিকে তেমনি ইতিহাস করো অবধান তুলে ধরতেও কার্পন্য করে না। আর এখনতো মিডিয়ার যুগ এবং সকলের চোখ কান খোলা। ফলে জোর দিয়ে পরিস্কার ভাষায় একটি কথাই বলা যায়, আর সেটা হলো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে মেয়র আইভীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একদিন তিনি থাকবেন না এটাই চীর সত্য। কিন্তু এটাও সত্য যে কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে মেয়র আইভীর নির্মিত স্থাপনাগুলি। যুগযুগ ধরে নগরবাসী তার এই মহান কীর্তির সুফল ভোগ করবেন বলেই সকলের বিশ্বাস। ##

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর