বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

চলাচলের রাস্তাটুকু ফিরে চাইলেন আছিয়া খাতুন

শহর প্রতিনিধি: / ১১ জন পড়েছেন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চলাচলের রাস্তার উপর নির্মাণাধীন স্থাপনা সরানোর দাবিতে ফিরোজ জামানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আপন বোন আছিয়া খাতুন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপরে দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকার নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অশ্রুঝরা কন্ঠে আছিয়া খাতুন বলেন, আমার আব্বা বেঁচে থাকা অবস্থায় আমাদের সমস্ত সম্পত্তি আমাদের ভাই-বোনদের মাঝে বন্টন করে দিয়ে যান। যেখানে চলাচলের জন্য ৮ ফুট রাস্তা ছেড়ে বাড়ীর সামনে আমার বড় ভাই আর পিছনের সম্পত্তি আমাদের তিন বোনের নামে লিখে দেন। এ তিন বোনের মধ্যে এক বোন তার সম্পত্তি বিক্রি করে চলে গেছেন। এখন আমরা দু’বোন আছি। এক বোন ওই সম্পত্তিতে বাড়ী করে ফেলছে আর এক বোন আমি এখন পর্যন্ত বাড়ী করতে পারিনি। কারন, চলাচলের ওই ৮ ফুট রাস্তার উপর আমার বড় ভাই ফিরোজ জামান জোরপূর্বক দালান নির্মান করেছে। ফলে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় এখন পর্যন্ত আমি বাড়ী করতে পারিনাই।
তিনি বলেন, এ ৮ ফুট রাস্তা ছেড়ে আব্বা যে বন্টন নামা আমাদেরকে করেদিয়ে গেছেন, ওই বন্টন নামায়ও আমার বড় ভাইয়ের সই আছে। কিন্তু আব্বা মারা যাওয়ার পরে তিনি (বড় ভাই) ওই রাস্তার উপর জোরপূর্বক দালান নির্মান করে। তিনি যখন তার দালান নির্মানের কাজ শুরু করে আমরা তখন পারিবারিকভাবে বহুবার বসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে বসেনাই। অবশেষে তিনি বলেছেন, স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটিকে বল, ওনারা যা বলবে আমরা সবাই তা মেনে নেবো। তার কথার ভিত্তিতেই যখন আমরা পঞ্চায়েত কমিটির কাছে বিচারের জন্য আবেদন করলাম। তারা সব খতিয়ে দেখে রায় দিলো, ‘এ ৮ ফুট জায়গাটা নিচ থেকে আকাশ পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। এখানে কোন স্থাপনা করা যাবেনা।’ কিন্তু আমার ভাই পঞ্চায়েতর সে রায় অমান্য করে সেই জায়গায় দু’তলা তিন তলা দালান নির্মান করছে। বর্তমানে চার তলার ছাদও নির্মান করে ফেলছে।
তিনি তার বড় ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, এখন যদি এ রাস্তাটা ছেড়ে দেয়া না হয়, তাহলে আমরা কিভাবে এ পথ দিয়ে হেঁটে যাবো আর কিভাবেই বা আমরা বাড়ী নির্মাণ করবো?
তিনি বলেন, আমার বড় ভাই ফিরোজ জামান তার মেয়ের জামাই ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হাদিকে সামনের জায়গাটা লিখে দেওয়ায় তিনি সেখানে দালান নির্মান করেছে। এখন মেয়ের জামাই কারো কথাই শুনছেন না। যারফলে এখনো এ ৮ ফুট রাস্তার কোন বিহিত হচ্ছেনা। আমরা এ বিষয়ে এসপি সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম। এসপি সাহেব তাকে দুইবার ডেকেছে, কিন্তু তিনি নানা অযুহাতে যাননি। তিনি যদি না যান, তাহলে সমাধান হবে কি করে?
তাই আমরা আজ বাধ্য হয়েই সংবাদ সম্মেলন করছি। আমরা চাই এর একটা সুষ্ঠু সমাধান। এছাড়া তাদের সাথে আমাদের আর কোন বিরোধ নেই। এই ৮ ফুট রাস্তা ছেড়ে দিলেই আমাদের আর কোন অভিযোগ থাকবেনা। আমরা এ জন্য জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ফিরোজ জামানের দুই ভাই ও স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটিসহ আরও অনেকে।
এদিকে এ বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির উপদেষ্টা মোহাম্মদ আলী বলেন, গত ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল দুই পক্ষই পঞ্চায়েতের কাছে অভিযোগ করেছিলো। আমরা ওইদিনই দুই পক্ষকে নিয়ে বসি। তাদের জবানবন্দি শুনি। তাদের জবানবন্দিতে জানতে পারি যে, আট ফুটের যে জায়গাটা চলাচলের জন্য ছিলো, সেই জায়গাটার উপরে হাদি ও ফিরোজ জামান তাদের দালানের ৪ ফুট বারান্দা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় দেড় ঘন্টা এটা নিয়ে মিটিং করার পর পঞ্চায়েতের সভাপতি-সেক্রেটারি থেকে শুরু করে সকলের উপস্থিতিতে রায় দেয়া হয়েছিলো যে, এ জায়গাটা অবমুক্ত করে দেয়ার জন্য। কিন্তু তাদের বার বার নিষেধ করার পরও তারা তাদের কাজ চালিয়ে গেছে। আমরা এ বিষয়ে এসপি সাহেবের কাছেও গিয়েছি। তিনিও বলেছেন, আপনারা ভাইবোন যেভাবে পারেন এটা দ্রুত সমাধান করেন। কিন্তু তারা সে কথাও শুনেন নাই।
এছাড়াও ফিরোজ জামান ওই ৮ ফুট জায়গা না ছেড়ে উল্টো তার আপন বোনদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। ফিরোজ জামান এ বিষয়ে জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার কাছে একটি মিথ্যে অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। পরে বুঝতে পেরে এ থেকে সরে যান জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন।
এ বিষয়ে জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক মো: ইকবাল শেখ বলেন, আমাদের অফিসে ফিরোজ সাহেব এবং তার জামাতা হাদি এসে জানালো যে, পুলিশ তাদেরকে একটু হয়রানি করতেছে। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ফতুল্লা থানায় অতিরিক্ত এসপি সাহেবের সাথে বসি। সেখানে বসে ফিরোজ সাহেবের ছোট বোনের কাছ থেকে সব শুনলাম। শুনে বুঝলাম, এ ঘটনায় ফিরোজ সাহেব এবং তার জামাতা হাদি সাহেবই দোষি। তাৎক্ষনিক অতিরিক্ত এসপি সাহেব বললো, মানবিক দৃষ্টিতে বসে এ সমস্যাটা সমাধান করে দিতে। এরপর ফতুল্লা থানা থেকে বের হয়ে আমাদের নিয়ে বসবে বলে আশ্বাস দিলো ফিরোজ সাহেব এবং তার জামাতা হাদি সাহেব। এরপর লকডাউনে পড়ে গোটা দেশ। লকডাউন শেষে দেখলাম তারাই আমাদের এ্যাবোয়েট করে যাচ্ছে। এরপর আমরা স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির কাছে শুনেছি এবং সরেজমিনে দেখেছি যে, আসলেই ফিরোজ সাহেব এবং তার জামাতা হাদি সাহেব তার বোনদের সাথে অবিচার করছে। তারাই মূলত দোষি। দু’বোন সম্পূর্ণ নির্দোষ। ফিরোজ সাহেব এবং তার জামাতা হাদি সাহেব তাদের উপর অন্যায় অত্যাচার ও অবিচার করছে। আমি এ বিচারটা সুষ্ঠু হোক, সমাধান হোক আর সবাই জানুক যে, এ দুইজন (ফিরোজ জামানা এবং তার জামাতা হাদি) মানুষ আসলে কতটা খারাপ।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর