মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
Headline :
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতি নির্বাচন সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শংকিত বিএনপিপন্থি আইনজীবী প্যানেল ভিন্ন রূপে নারী নেত্রী দিনা চিৎকার পৌঁছায় লন্ডনে, পরিবর্তনে বিএনপি সদর উপজেলায় বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন নাসাতে যেতে চাই -ডিসি বন্দরে রাজাকার পুত্রের নেতৃত্বে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটি’ শীর্ষ রাজাকারের পুত্র নিয়ে রাজনীতির মাঠে আনোয়ার হোসেন ১০০ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির হোতা মনির অধরা! আনন্দধামের পক্ষে সিমুর জেলা প্রশাসককে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলার মানুষ ও বিশ্ববাসী কৃতজ্ঞ: ভিপি বাদল নারায়ণগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৬ কেসি এ্যাপারেলস হারালো টার্গেট গ্রুপকে অধ্যাপক বুলবুল চৌধুরীর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী

তারা লাল সবুজের ফেরিওয়ালা

স্টাফ রিপোর্টার: / ৩৮ জন পড়েছেন
আপডেট সময়: বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

লাল সবুজের বিজয় নিশান হাতে হাতে ছড়িয়ে দাও’৷ লাল সবুজের ফেরিওয়ালারা যেন এই দায়িত্বই নিয়েছেন। এই গানের মতোই বিজয়ের মাসে আমাদের সবার হাতে হাতে বিজয়ের নিশান ছড়িয়ে দিতে অলিতে গলিতে ব্যস্ত তারা৷

দিন সপ্তাহ মাস বছর ঘুরে আবার এসেছে মহান বিজয় দিবস। প্রতিবছর বিজয়ের মাস এলে শহরে বিভিন্ন অলিতে গলিতে ফেরিওয়ালারা পতাকা বিক্রি করেন। আগামীকাল বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর)। পতাকা নিয়ে ছুটছেন পতাকার ফেরিওয়ালারা। তাদের পতাকায় বিভিন্ন স্থাপনা সেজে ওঠে বিজয়ের রঙে। মানুষের পোশাকেও আসে পরিবর্তন। লাল-সবুজের রঙে সাজেন দেশপ্রেমীরা। পথে পথে ওড়ে লাল-সবুজের পতাকা। মাস জুড়ে বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, দোকানে, মোটরসাইকেল, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেখা যাবে লাল সবুজের পতাকা। কাগজ ও কাপড়ের পতাকা দিয়ে সাজানো থাকে এলাকার রাস্তাঘাট।

শহর ঘুরে দেখা মেলে লাল সবুজের ফেরিওয়ালাদের। বিক্রি করছেন বিজয়ের নিশান। পতাকা ছাড়াও বিক্রি করছেন লাল-সবুজ রঙের কাগজের ক্যাপ, রাবারের ব্যান্ড, ব্রেসলেট ও বুকে লাগানো ব্যাজ। বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করলেও বিজয়ের মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বরে তারা এই ব্যবসা করেন।

কথা হয় এক মৌসুমী ব্যবসায়ী হোসাইনের (৪২) সাথে। তিনি বলেন, তার বাড়ি ফরিদপুর। আজ সকালেই ট্রেনে এসেছেন নারায়ণগঞ্জে। এর আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে কৃষি কাজ করতেন। আজ থেকেই পতাকা বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। বিক্রি করবেন ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পতাকার আকৃতি অনুযায়ী বিক্রি করেন বিভিন্ন দামে। তিনি জানান, কাপড়ের তৈরি বড় পতাকা (৬ ফুট) বিক্রি করছেন ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে, ৫ ফুট পতাকা ১৩০-১৫০, কাপড়ের ছোট পতকা বিক্রি করছেন ২৫-৩০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও পতাকাসহ রাবারের ব্যান্ড, ব্রেসলেট, মাথার বন্ধনী ও বুকে লাগানো ব্যাজ বিক্রি করছেন ১০ টাকা করে।

হোসাইন বলেন, ‘বেচা-কেনা নেই। তবে ১৬ ডিসেম্বর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বরে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর এক সাগর রক্ত ও ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। দেশের পতাকা বিক্রি করে আমি গর্বিত৷’

স্কুছাত্র হৃদয় (১৫) ২০ টাকা দিয়ে দুটি পতাকা কিনেছে তার ছোট ভাই ও বোনের জন্য। হৃদয় জানান, ছোট শিশুরা পতাকা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে।

১০ টাকা দিয়ে একটি পতাকা কিনে রিকশাচালক আলী। রিকশার সামনে পতাকা লাগিয়ে রেখেছেন। জিজ্ঞাস করতেই হেসে বলে ওঠলেন বিজয়ের মাস। পতাকাই আমাদের বিজয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই পতাকার জন্যই যুদ্ধ করেছে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা।

গলাচিপা এলাকায় এক যুবকের হাতে দেখা যায় কাগজের পতাকার বান্ডিল। তার নাম আমির। আমির বলে, ১৬ ডিসেম্বরে এলাকা সাজাবো তাই ১০ বান্ডিল পতাকা কিনছি। পরে লাগলে আরও কিনবো। এলাকায় ১৬ ডিসেম্বরে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য নিয়ে বিজয় দিবস পালন করি আমরা।

মৌসুমি পতাকা বিক্রেতাদের একজন ফিরোজ। একটি বাঁশে বাহারি সাইজের পতাকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ ডাক দিয়ে দেখছেন পতাকা। সাইজের সঙ্গে দামে মিললেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

এই বাঁশে বাহারি পতাকা নিয়ে সে চলছে আর বাতাসে উড়ছে মুক্তির নিশান। ব্যাগে মাথার ব্যান্ডানা, হাতের ব্রেসলেট বা রিস্টব্যান্ড, কাগজের পতাকা ইত্যাদি। এভাবেই সকাল সন্ধ্যা বিক্রি করছেন বিজয়ের নিশান। সবার হাতে হাতে ছড়িয়ে দিচ্ছেন লাল সবুজের বিজয় নিশান।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর