মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫২ অপরাহ্ন

ভেঙে যাচ্ছে পদ্মা ডিপো ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১৬ জন পড়েছেন
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ভেঙে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল পদ্মা ডিপো ইউনিট। ২ বছরের কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও কমিটির সভাপতি জাহিদ ও সেক্রেটারী ফারুক সহ কয়েকজন ইউনিট কমিটির নেতার অবৈধ কর্মকান্ড ও শ্রমিক হয়রানীর বিরুদ্ধে অন্যান্য ভুক্তভোগী শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছে।
ভুক্তভোগী শ্রমিকরা বলেন ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর পদ্মা ডিপো ইউনিট কমিটির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন। ২৬ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন অবশ্যই পদ্মা ডিপো ইউনিট কমিটি গঠনতন্ত্র মোতাবেক কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত কাজ, কর্মসূচি পালন, সদস্যদেরকে দেখাশুনা ও আইনানুগ এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনসহ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ মোতাবেক তার নির্দেশনার আলোকে সংগঠন পরিচালনা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। অথচ কমিটি অনুমোদনের পর পরই অবৈধ কর্মকান্ড ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে সভাপতি জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন সহ গুটি কয়েক কর্মকর্তা। বর্তমানে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনে কার্যত কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না গোদনাইল পদ্মা ডিপো ইউনিট। সম্প্রতি ট্যাংকলরী শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা ও বিভিন্ন অধিকার আদায়ের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর এবং নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপিসহ বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন তদন্ত করছে বলে জানাগেছে এবং ঘটনার সত্যতা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত গোদনাইল পদ্মা শাখা ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদ ও সেক্রেটারী ফারুককে বহিস্কার করা হতে পারে বলে ভূক্তভোগী শ্রমিকরা জানান। এছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগে যে কোন সময় পুলিশের হাতে আটক কিংবা গ্রেফতার হতে পারে বলেও জানাগেছে। শ্রমিকদের এক লিখিত অভিযোগে জানাযায় মোল্লা ফিলিং ষ্ট্রেশনের ট্যাংকলরী রাস্তায় আটকিয়ে পাঁচলাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গাড়ি চালক সহ হেলপারকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় জাহিদ ও ফারুক। প্রতিদিন ট্যাংকলরীর ক্যালিব্রেশনকে মুডিফাই করে প্রতি গাড়ীতে ৫০/৬০ লিটার ডিজেল হাতিয়ে নেয়া সহ প্রায় ৩০০/৩৫০ লিটার ডিজেল বেশি নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। বর্তমানে দুর্নিতীবাজ জাহিদ ও ফারুকের বিরুদ্ধে আন্দোলনকৃত ট্যাংকলরী শ্রমিকরা জীবন নাশের হুমকিতে রয়েছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সভাপতি জাহিদ ও সেক্রেটারী ফারুক বীর দর্পে বলে বেড়াচ্ছে যে, প্রশাসন তাদের কিছুই করতে পারবে না। আর পত্র পত্রিকায় লিখে কি হবে। আমাদের হাতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক নেতা ও এমপিরা। এধরনের বক্তব্য দিয়ে জাহিদ ও ফারুক শ্রমিকদের সাথে বিভিন্ন সময় তাফালিং করে বেড়ায়। জাহিদ ও ফারুককে বয়কটের ঘোষনা শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে দ্রুত বহিষ্কার চাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন শ্রমিকরা।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর