বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

মন্ত্রী গাজীর এলাকায় বিএনপির অনুষ্ঠানে হামলা

সোজা সাপটা রিপোর্ট: / ২৮ জন পড়েছেন
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের রূপগঞ্জের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনা এবং তৈমূর আলম খন্দকারের ৬৮ তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না। হামলায় মান্না ও তৈমূর আলমসহ কমপক্ষে ২৫/৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ পাহারায় রূপগঞ্জ থেকে নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীরা দু’টি প্রাইভেট কার, ৩০-৩৫টি মোটর সাইকেল, প্লাস্টিকের চেয়ার, সাউন্ড সিস্টেমসহ সামিয়ানার ভেতরে ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালায়।
হামলায় মাহামুদুর রহমান মান্না ও অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম ছাড়াও অ্যাডভোকেট তৈমূরের বড় মেয়ে ব্যারিস্টার মার-ইয়াম খন্দকার, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার, ফাতেমা আক্তার, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রিপন, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সজিব আহমেদ ও তৈমূর আলমের চাচাতো ভাই নওজেশ খন্দকার জুয়েলের নাম জানা গেছে।
তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, এই হামলা গোলাম দস্তগির গাজী করিয়েছে । গাজি বাহিনীর প্রত্যেকের হাতে অস্ত্র ছিলো তারা পুরো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলো। এসময় রূপগঞ্জ পৌর মেয়রের পিএ বাবুর্চি ফিরোজ অস্ত্র সহকারে উপস্থিত ছিলো। মাহমুদুর রহমান মান্না যখন বক্তব্য রাখছিলেন ঠিক মাঝ পর্যায়ে গাজীর বাহিনী আমাদের উপর হামলা করে। এসময় মান্না ভাইসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়। এবং ৮টি গাড়িসহ সাউন্ড সিস্টেম, চেয়ার, মোবাইল ভাঙচুর করে তারা।
হামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না উল্লেখ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলকে মারধর করার মতো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করি না। তাদের নিজেদের মধ্যে ব্যাপক কোন্দল আছে। নিজেরা নিজেরা ভাঙচুর করে সেটার দায় আমাদের ওপর চাপাতে চাচ্ছে। তাদের কাছে নিশ্চয় ভিডিও বা ছবি আছে। আমাদের লোকজন সেখানে হামলা করেছে, এমন প্রমাণ দিতে পারলে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
হামলার বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘তৈমুর আলমের ৬৮তম জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলাম। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ৪০-৫০ জন ছেলে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিয়ে মঞ্চের দিকে আসতে থাকে। সেখানে থাকা নেতা-কর্মীরা আমাকে নিরাপদে একটি কক্ষে নিয়ে আসে। হামলাকারীরা আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’ ঘটনার এক ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অনুষ্ঠানে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীর বাড়ির পাশেই তৈমুর আলম তার বাড়িতে অনুষ্ঠান করছিলেন। অনুষ্ঠানে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিতে নিষেধ করতে গিয়েছিলেন।’
আহত ও ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা আছেন। তারা ভাঙচুর বা আহতের কোনো ঘটনা দেখেননি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি।’
অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধান অতিথি হিসেবে মাহামুদুর রহমান মান্না বক্তব্য শুরু করার পরেই রূপগঞ্জ উপজেলার ছাত্র লীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদার ও যুবলীগ নেতা রবিনের নেতৃত্বে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে ৪০-৫০ জনের একটি দল মাথায় হেলমেট হাতে রামদা ও লাঠি নিয়ে সভাস্থলে হামলা চালায়। তারা মঞ্চ থেকে অতিথিদের টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং অনুষ্ঠানে আসা অন্যান্য অতিথিদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। এছাড়া মঞ্চ ও মঞ্চের সামনে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ার, সাউন্ড সিস্টেম অতিথিদের বহন করে আনা দু’টি মাইক্রোবাস, ৩০-৩৫টি মোটর সাইকেল ভাঙ্গচুর করে আবারো জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে।
অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম বলেন, হামলাকারীরা সবাই সরকারী দলের ছাত্র ও যুব লীগের নেতা। এ ধরণের ঘটনা কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সন্ধ্যার আগে রূপগঞ্জ থানার এসআই আসাদ ঘটনাস্থলে এসে মাহামুদুর রহমান মান্নাসহ অতিথিবৃন্দকে নিরাপত্তা দিয়ে রূপগঞ্জের বাইরে দিয়ে আসেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদারের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হামলার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। জেলা পুলিশের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাও তাকে ফোন দিয়ে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, উপজেলার তারাব পৌর এলাকার আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ খন্দকার বাড়িতে অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে সেখানে যান এবং তাদেরকে সেখানে অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করেন।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর