বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

সারোয়ারের মৃত্যু বার্ষিকীতে এবার মসজিদে মসজিদে দোয়া

শহর প্রতিনিধি: / ৮ জন পড়েছেন
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

নারায়ণগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এক সময়ের তুখোড় নেতা গোলাম সারোয়ারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার ৩০ অক্টোবর। ২০১৫ সালের সালের এ দিনে তিনি ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এদিকে করোনার কারণে মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচীতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়েছেন তাঁর ছোট ভাই শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু। তিনি জানান, প্রত্যেক বছরই চাষাঢ়াতে দোয়া পালন করা হতো। সেখানে প্রচুর মানুষের ঢল নামে। যেহেতু এবার করোনার একটি প্রাদুর্ভাব চলছে সেহেতু লোকজনের সমাগম এড়াতে হবে। সে কারণেই চাষাঢ়াতে এবার বিগত বছরের মত বড় করে কোন প্রোগ্রাম হবে না। তবে প্রত্যেক এলাকার মসজিদ মাদ্রাসায় আলাদা করে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ফলে স্ব স্ব এলাকার রাজনীতিক, শুভাকাংখীদের ওইসব এলাকার মসজিদে দোয়ায় শরীক হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
সাজনু আরো বলেন, এছাড়া পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের সহ ধর্মিনী নারায়ণগঞ্জ মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপির অস্ত্রোপচার হবে। তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করেও সকলকে দোয়া পালনের আহবান করছি যেন তিনি আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসে মানবসেবায় সম্পৃক্ত হতে পারে।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর মৃত্যুর আগের ২০ দিন ধরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন গোলাম সারোয়ার। তার প্রচন্ড জ্নৎানধৎ;র ছিল। প্রথমে তাকে ল্যাব এইডে নেয়া হলে ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখে। সেটাই তাকে বেশী ক্ষতি করেছে। পরে তাকে ল্যাব এইড থেকে শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি ১০ দিন চিকিৎসাধীন ছিল। তবে তারপরেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ও পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন সারোয়ার। নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী স্কুল থেকে ইংরেজীতে রেকর্ড নাম্বার পেয়ে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি তোলারাম কলেজ থেকে পাশ করেন। তোলারাম কলেজে পড়ার সময় থেকে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।
১৯৮৮ সালে চাষাঢ়া-মিশনপাড়ার রাজনৈতিক বিরোধের সময়ে জেলাজুড়ে আলোচিত হন সারোয়ার। এরপর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সারোয়ার ছিলেন আলোচিত। নব্বই দশকে শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন রাজনীতির মাঠে। ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সারোয়ারের নাম ছড়িয়ে পড়ে জেলা জুড়েই। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজনীতি থেকে এক প্রকার নির্বাসিতই ছিলেন সারোয়ার। পরে তিনি ভারতে ছিলেন কয়েক বছর। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সারোয়ার দেশে ফিরে আসলেও শারিরীক অসুস্থ্যতার কারণে রাজনীতিতে সক্রিয় হননি। এর মধ্যে সারোয়ার মস্তিস্ক, কিডনী রোগে ভুগছিলেন।

আর্কাইভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর